স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ শহরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য অপসারণ করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। মঙ্গলবার পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে হাসপাতাল এলাকার স্তূপকৃত বর্জ্য সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি ৬টি নতুন ডাস্টবিনও স্থাপন করা হয়। এতে রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, হাসপাতালের মেডিকেল বা ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং এ বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। অন্যদিকে সাধারণ বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব পালন করে পৌরসভা। তবে সাধারণ ও মেডিকেল বর্জ্য একসঙ্গে ফেলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য অপসারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এবার পুরো স্থান পরিষ্কার করে দেয় পৌরসভা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী আমির হোসেন বলেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় প্রায়ই দুর্গন্ধে কষ্ট হতো। জায়গাটি দেখতেও খুবই অপরিচ্ছন্ন লাগত। এখন পরিষ্কার হওয়ায় অনেক ভালো লাগছে।
রোগীর স্বজন সহিবুর রহমান বলেন, স্তূপকৃত বর্জ্যের কারণে মশা-মাছি ও দুর্গন্ধে পরিবেশ খুবই খারাপ ছিল। এখন পরিষ্কার হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে। হাসপাতাল এলাকা সবসময় এভাবেই পরিচ্ছন্ন রাখা উচিত।
পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা ফরিদ আলী বলেন, সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল বর্জ্য ফেলার নিয়ম নেই। আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য আলাদা রাখত। এবার পুরো এলাকা পরিষ্কার করে ৬টি নতুন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জে টিআইবির সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, হাসপাতাল এলাকার স্তূপকৃত বর্জ্য অপসারণ করার উদ্যােগটি ভালো। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য অপসারণ ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। দুটি প্রতিষ্ঠানই আমাদের সেবা দিয়ে থাকে। আমরা মনে করি তাঁরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে সমম্যা থাকবে না।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে এবং এখনও চলমান রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ এভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখলে হাসপাতাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সহজ হবে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, মেডিকেল বর্জ্য অপসারণের জন্য হাসপাতালের পৃথক বরাদ্দ, ব্যবস্থাপনা রয়েছে এবং সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। পৌরসভা সাধারণ বর্জ্য অপসারণ করে থাকে। এবার হাসপাতালের ছড়িয়ে থাকা ও স্তূপকৃত বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি ৬টি নতুন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।