স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, সাম্য ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক নজরুলবিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
সোমবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে, জেলা প্রশাসন সুনামগঞ্জের সহযোগিতায় এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমি ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ’র সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান। জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌর ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ, সিলেট বেতারের শিল্পী শামীম সরোয়ার।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার আলোচনায় সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন কাজী নজরুলের সাহিত্য ও চেতনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের দৈহিক মৃত্যু হলেও তাঁর কবিতা ও সাহিত্য কখনো মৃত্যুবরণ করবে না। বাঙালির দুঃখ—দুর্দশা, বঞ্চনা ও সংগ্রামের সঙ্গে নজরুলের সাহিত্য আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
তিনি আরও বলেন, কবিতা দিয়ে হয়তো সরাসরি যুদ্ধ করা যায় না, কিন্তু মানুষের ভেতরের দ্রোহ, প্রতিবাদ ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে কবিতার শক্তি অপরিসীম। ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের প্রতিটি আন্দোলন—সংগ্রামে নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দের কবিতা মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাঙালি জাতির দ্রোহ, প্রেম, সাম্য ও মানবতার মূল কণ্ঠস্বরই হলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
ফারসি সাহিত্য ও ফারসি ভাষার প্রতি নজরুলের গভীর অনুরাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, যতদিন পৃথিবীতে অন্যায়, শোষণ এবং ধর্মের নামে অধর্মের আস্ফালন থাকবে, ততদিন কাজী নজরুল ইসলাম প্রাসঙ্গিক থাকবেন। এ দেশের প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে নজরুলের চেতনা বেঁচে থাকা অত্যন্ত জরুরি।