স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ধোপাজান নদী থেকে বালু লুটের ঘটনায় লিমপিড ইঞ্জিনিয়ার কম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন নদী তীরবর্তী জমির মালিক গোলাম হোসেন। বৃহষ্পতিবার দুপুরে বিশ্বম্ভরপুর আমলগ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য চলতি মাস থেকে লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ভিট বালুর বদলে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিলিকা বালু লুট করে নিচ্ছে। এতে স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন বিক্ষোভ, মানববন্ধন কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে স্মারকলিপি প্রদান করা হচ্ছে। হুমকিতে পড়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।
আদালতে দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার রতারগাও মৌজায় আদাং এলাকায় ধোপাজান নদী তীরবর্তী সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আরপিননগরের বাসিন্দা গোলাম হোসেনের পিতার দলিলমূলে ক্রয়কৃত ২.৪০ একর জমি রয়েছে। চলতি মাসে লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি বিআইডব্লিউটিএ’র কাছ থেকে বিধি বহির্ভূত মাত্র ৬৬ লক্ষ টাকায় ভিট মাটি উত্তোলন করতে ১ বছরের জন্য অনুমোদন নিয়েছে। কিন্তু খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বালু পাথর মহালটি ২০১৮ সাল থেকে পরিবেশ সংগঠন বেলার মামলায় ইজারা বন্ধ রয়েছে। বেলা নদীতে ড্রেজার দিয়ে বালু লুটের অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা করে। ড্রেজারে বালু লুটের মামলা চলমান থাকার পরও লিমপিড রাতের আধাতে শত শত ড্রেজারে কোটি টাকার বালু লুট করছে। এতে নদী তীরবর্তী মানুষের জমি ও ঘরবাড়ি হুমকিতে পড়েছে।
অভিযোগে ভুক্তভোগী উল্লেখ করেন, ১৯৮৪ সালে তার পিতা ইব্রাহিম আলী আজম আলীর কাছ থেকে রতারগাও মৌজার এসএ ১১ ও ১০৯২ নং দাগে ২.৪০ একর জমি ক্রয় করেন। এবার লিমপিড নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের খবর পেয়ে তিনি এলাকায় গিয়ে দেখতে পান তাদের ক্রয়কৃত জায়গা থেকে বালু ড্রেজারে লুট করে নিচ্ছে লিমপিডের লোকজন। তিনি বাধা দিলে দেওয়ায় হুমকি ধমকি দিলে তিনি চলে আসেন। আসামীদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র থাকায় তিনি বালু লুটে বাধা দিতে পারেন নাই বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। লিমপিড এ পর্যন্ত বাধীর রেকর্ডীয় জমি থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকার বালু লুট করেছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন। এছাড়াও ড্রেজারে বালু লুটের কারণে তার জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং এলাকার বেড়িবাঁধ ঝূঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ করেন।
অভিযোগকারী গোলাম হোসেন বলেন, লিমপিড ইঞ্জিনিয়ারিং কম্পানি ভিট মাটির অনুমোদন নিয়ে এখন বালু লুট করে নিচ্ছে। তারা অবৈধভাবে রাতের আধারে ড্রেজারে প্রতিরাতে কোটি কোটি টাকার বালু লুট করছে। এখন আমাদের জমি থেকেও বালু লুট করছে। এতে আমার জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এ কারণে আমি তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছি।
মামলার আইনজীবী নাজমুল হুদা হিমেল বলেন, আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন। আশা করি আমরা আইনী সহায়তা পাবো।