দোয়ারাবাজার
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নে সোনালী বিজিবি ক্যাম্প থেকে চেলা নদীর এলসি পয়েন্ট, চেলা নদী পারাপারের খেয়াঘাট পর্যন্ত এক কিলোমিটার জনগুরুত্বপূর্ণ একমাত্র কাঁচা সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছে বিভিন্ন অঞ্চল হতে নিয়মিত যাতায়াতকারী লক্ষাধিক পথচারীরা।
জানা যায়, সুনামগঞ্জ জেলার বিশম্বপুর,তাহেরপুর,জামালগঞ্জ, দোয়ারাবাজার এবং নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার লক্ষাধিক জনসাধারণ,শ্রমিক সিলেটের ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা সোনালী চেলা বিজিবি -চেলা নদী খেয়া পারাপারের রাস্তা। এই সড়কের মধ্যভর্তি পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের কবরস্থানের সামনে সামান্য বৃষ্টিতেই কোমড়সমান কাঁদা জমে হালচাষের জমিতে পরিনত হয়।
এসব উপজেলার পথচারীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
প্রতিদিন কাঁদা জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয় এই সড়ক দিয়ে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,বিগত ১৭ বছর এক টুকরো মাটি পরেনি সোনালী চেলা বিজিবি ক্যাম্প - চেলা নদী পারাপারের পূর্বচাইরগাঁও খেয়াঘাটে যাতায়াতের রাস্তায়। ২০০৮ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামের মানুষের চাঁদা উত্তোলনের মাধ্যমে কাঁচা সড়কটি নির্মান করা হলেও সরকারি কোন দপ্তরের সহযোগিতা পায়নি এই গ্রামবাসী ও সড়কটি। এর পর থেকে একাধিকবার নির্বাচনকালীন জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর, তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান বিগত দুই নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দেয় যে এই এলাকার মানুষ তাকে ভোট দিলে তিনি রাস্তার উন্নয়ন কাজ করবেন। তিনি দু'বারই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন,কিন্তু পরবর্তীতে এই ওয়ার্ডে তিনি আশানুরূপ ভোট না পাওয়ায় এক টুকরো মাটি ফেলেননি।
স্থানীয়রা জানান, নরসিংপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পূর্বসোনাপুর,হাবিব নগর, সারপিনাপাড়া এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ,উপজেলা পরিষদ ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন এই সড়ক দিয়ে। ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের লুভিয়া,ইছামতী,নোয়াকুট এবং বনগাঁও এলাকার কয়েকহাজার মানুষ জেলা শহর সুনামগঞ্জে যাতায়াত করেন এই সড়ক দিয়ে।
এছাড়াও, সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ জেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে কাজ করতে সুনামগঞ্জের বিশম্বপুর, জামালগঞ্জ তাহেরপুর, শান্তিগঞ্জসহ নেত্রকোনার বেশ কয়েকটি এলাকা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের কয়েকহাজার শ্রমিক মোটরসাইকেল যোগে এই সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়তো যাতায়াত করেন।
তবুও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অবহেলায় উন্নয়নবঞ্চিত জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। এতে শুঁকনো মৌসুমে কিছুটা দূর্ভোগ কম থাকলেও বর্ষায় হালকা বৃষ্টিতে পূর্বচাইরগাঁও কবরস্থান নামাক এলাকায় পানি জমে কাঁদা সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে । অনেক সময় দূর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে পথচারী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা কাঁদা মাড়িয়ে কোনো রকমে স্কুলে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় জমে থাকা পানির কারণে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে বসতঘরের উঠোন দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের চেলা নদী এলসি পয়েন্ট দিয়ে ভারত থেকে চুনাপাথর আমদানী করা হয়। আর সেই চুনাপাথর আমদানীতে জড়িত,ছাতক শহর এলাকা হতে আসা কাস্টমস কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা প্রতিনিয়তো এই সড়ক দিয়ে চেলা এলসি পয়েন্টে যাতায়াত করেন,চুনাপাথর আমদানী করতে ভারতের অভ্যান্তরে যাতায়াত করেন এই সড়কটি দিয়ে।
পূর্বচাইরগাঁও গ্রামের জামায়াতে ইসলামী নেতা মকবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,এমপি থেকে শুরু করে চেয়ারম্যান—কেউ বাদ নেই যে এলাকায় আসেন নি। আমরা সবাইকে বলেছি। কিন্তু প্রতিবার শুধু প্রতিশ্রুতি পাই, কাজ হয় না। গ্রামের সহজ-সরল মানুষদেরকে লোভ লালসা দেখিয়ে তারা ভোট নিতে বাধ্য করলেও বিগত ১৭ বছরে এক টুকরো মাটিও দেননি এই রাস্তায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী সামির আলী বলেন, খুব কষ্ট লাগে যখন দেখি ছোট ছোট বাচ্চারা কাঁদা মেখে স্কুলে যায়। অনেকেই নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। দ্রুত রাস্তাটি পাঁকাকরণ করা জরুরি।
এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সড়কটি পাকা হলে শুধু যাতায়াত সহজ হবে না, বরং শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
এবিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ জানান,এই রাস্তা সম্পর্কে আমাদের কেউ বলেন নি। রাস্তাটি পরিদর্শন করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করা হবে।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন,রাস্তার বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা নেই, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।