স্টাফ রিপোর্টার
তিনদিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ ছাড়িয়ে কাঁচা মরিচের দাম ৪০০—৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রয় হচ্ছে। বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং শনিবার এই তিন দিনে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পাইকারি এবং খুচরা দোকানগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।
এছাড়াও জেলার বাইরে বিভিন্ন উপজেলার বাজারগুলোতে একই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আকস্মিক ভাবে দাম বাড়ায় অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত পরিবার কাঁচামরিচ কেনা থেকে বিরত থাকতে দেখা গেছে।
ক্রেতাদের অনেকেই বলছেন, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি তাদের। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোকামে দাম বাড়ায় এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় মরিচের দামটা বেড়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের জেল রোড এলাকার বাজারে তিন দিনের ব্যবধানে কেজিতে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রকারভেদে ৪০০—৪৫০—৫০০ টাকায়। চলতি মৌসুমে এটিই এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম। তবে গত সপ্তাহে এই দাম ১৮০/২০০ টাকার ভেতরেই ছিল। বৃহস্পতিবার থেকে দাম বেড়ে ৪৫০—৫০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়।
শহরের জেল রোড এলাকায় পাইকারী সবজি বিক্রেতাদের অসংখ্য দোকান এবং আড়ৎদার রয়েছে। ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামরিচের এই দাম বৃদ্ধির কারণ বৃষ্টি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকট। গত দুইদিনে বৃষ্টির কারণে বাজারে মরিচের সরবরাহ কম। এদিকে পূজার ছুটিতে অনেকেই নিজ নিজ বাড়িতে ছুটি কাটাচ্ছেন। যে কারণে, মরিচের সরবরাহে সাময়িক সমস্যা হচ্ছে। এজন্য দামও বেড়ে গেছে। এছাড়াও বৃষ্টিতে অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। এ কারণে অনেক চাষিই মরিচ উঠাতে পারেননি।
সরেজমিনে দেখা যায়, নুরুল ইসলাম নামে এক বয়োজ্যেষ্ঠ এসেছেন বাজার করতে। তিনি অন্যান্য নিত্যপণ্য ও সবজি কিনে কাঁচামরিচ কিনতে গিয়ে একাধিক দোকানে যাচাই করেন, দেখেন সব দোকানে একই দাম। নিয়মিত বাজারের তালিকায় ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ কিনেন ২০ টাকায়। সেখানে ৪০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনেছেন ২০ টাকায়।
দিনমজুর সুহেল মিয়া সবজি বাজারে এসে আলু এক কেজি এবং পেঁপে হাফ কেজি কিনেছেন। কাঁচা মরিচের দাম বাড়ায় তিনি না কিনেই ফিরছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, এত দামে কাঁচা মরিচ কেনা সম্ভব নয়।
জামাইপাড়ার বকুল দে এসেছেন সবজি বাজারে। ঝিঙা, বেগুন, কাঁচা মরিচ কিনে ফিরছিলেন। তিনি বলেন, সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। ঝিঙা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বেগুন ১৫০ টাকা এবং কাঁচামরিচের কেজি ৫০০ টাকা হয়েছে। সাধ্যের বাইরে চলে গেছে সবজির দাম।
সবজি বিক্রেতা রঞ্জন সরকার বলেন, কাঁচা মরিচের দামটা বেড়েছে। বাড়ার কারণে আমাদের বিক্রি করতে সমস্যা হচ্ছে। কাস্টমার ধরে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। তিনদিন ধরে এই কাঁচামরিচ পাইকারি প্রতি কেজি কিনতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এতে করে ১০০ গ্রাম ৪০ টাকায় বিক্রি করলেও আমাদের লাভটা থাকে না। দাম বাড়লে ক্রেতারা পরিমাণে কম কিনে, বিক্রি কম হয়।
খুচরা বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, এক কেজি কাঁচামরিচ পাইকারি ৪০০ টাকায় কিনেছি। ১০০ গ্রাম মরিচ ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি সবজি বিক্রেতা মাসুক মিয়া বলেন, মোকামেই কাঁচামরিচের দাম বেশি।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বাজারে তদারকিতে যাব। দাম বাড়িয়ে বিক্রি করলে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেব।