স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর-ধোপাখালী সড়কের মাঝখানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন পৌরসভা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ষোলঘর-ধোপাখালী সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক, পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েস এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনকালে সড়কের মাঝখানে থাকা চারটি বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে যানবাহন চলাচলে সৃষ্ট সমস্যা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এ সময় দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণ করে জনদুর্ভোগ কমানোর বিষয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে খুঁটিগুলো অপসারণ করা হয়নি। দ্রুত খুঁটিগুলো সরিয়ে সড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ শর্মা বলেন, ‘আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজটি সমাধান করে দেওয়ার চেষ্টা করব। পৌরসভা যেহেতু আমাদের সহযোগিতা করছে, আমরাও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ‘বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। বিষয়টি নিয়ে সংবাদও প্রকাশ হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সরেজমিনে এসেছি। উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভাতেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভাগ ও পৌরসভা-দুই প্রতিষ্ঠানই আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা দ্রুত এর সমাধান করতে চাই। এখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায়-দায়িত্ব কে নেবে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
পৌর প্রশাসক আরও বলেন, কীভাবে দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা যায়, সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। জটিল কোনো প্রক্রিয়ায় গেলে পৌরসভার পক্ষে পুরো ব্যয় বহন করা সম্ভব নয়। তারপরও মানুষের বৃহত্তর স্বার্থের কথা চিন্তা করে আমরা যতটা সম্ভব সহযোগিতা করব। বিদ্যুৎ বিভাগও সহযোগিতা করছে। আশা করছি দ্রুত এর সমাধান হবে।’
এর আগে প্রায় এক বছর আগে ষোলঘর-ধোপাখালী সড়ক প্রশস্ত করা হলেও সড়কের মাঝখানে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো অপসারণ করা হয়নি। এতে ব্যস্ততম এ সড়কে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকরা। বিশেষ করে রাতে ও বৃষ্টির সময় খুঁটিগুলোকে ঘিরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।