স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে তিন দিনব্যাপী কথক নৃত্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ প্রশিক্ষণ শেষ হয়।
শহরের সাংস্কৃতিক সংগঠন অয়নৃত্যের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ভারতের ত্রিপুরার ঘুঙুরু ড্যান্স ফাউন্ডেশনের পরিচালক রাহুল দেব। আয়োজনে সহযোগিতা করে জেলা শিল্পকলা একাডেমি। কর্মশালায় ৪০ জন প্রশিক্ষার্থী অংশ নেয়।
অয়নৃত্যের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক এবং নৃত্য প্রশিক্ষক সৌরভ অধিকারী অয়নের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেরগুল আহমেদ,জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মনজুরুল হক চৌধুরী, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বোরহান উদ্দিন শুক্লা রায় চৌধুরী, নৃত্যকলি সভাপতি জেপি পাল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ব্রজেন সিনহা, ছাতক বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক অজয় কৃষ্ণ পাল প্রমুখ।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া রাজশ্রী পাল সৃষ্টি বলেন, তিন দিনের কর্মশালায় প্রশিক্ষকের কাছ থেকে অনেক নতুন বিষয় শেখার সুযোগ হয়েছে। অনুশীলনের সময় ভুলত্রুটি সংশোধনের পাশাপাশি কথক নৃত্য সম্পর্কে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তারা। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে প্রশিক্ষককে সুনামগঞ্জে আনার প্রত্যাশা করেন তিনি।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শুভনিতা কর বলেন, কর্মশালায় শুধু নৃত্য শেখাই নয়, বিভিন্ন জায়গা ও পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচিতি ও পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষক তাদের তৎকার, টুকরা, আমদসহ কথক নৃত্যের বিভিন্ন বিষয় শিখিয়েছেন। ভবিষ্যতে রাহুল দেবকে আবারও সুনামগঞ্জে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আয়োজকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষক রাহুল দেব বলেন, ত্রিপুরা থেকে সুনামগঞ্জে এসে এ ধরনের একটি কর্মশালায় যুক্ত হতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিন দিনে শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও শেখার আগ্রহ তাকে মুগ্ধ করেছে। তারা যেভাবে অনুশীলন করেছে, তা প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তারা আরও এগিয়ে গিয়ে সুনামগঞ্জের নাম জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, কথক ভারতের একটি শাস্ত্রীয় নৃত্য। বাংলাদেশেও দীর্ঘদিন ধরে এ নৃত্যচর্চা ও প্রশিক্ষণ চলছে। সুনামগঞ্জে কথক নৃত্যের চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী বলেন, সুনামগঞ্জ সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পরিসর যত বাড়বে, সমাজে শুদ্ধতার চর্চাও তত বাড়বে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে সব সময় সহযোগিতা করবে।