স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ময়নার পয়েন্টস্থ পানি শোধনাগার-২ এর ওয়াটার রিজার্ভারে লিকেজ মেরামত কাজ চলায় ১৪ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত মোট আট দিন ওই কেন্দ্র থেকে পৌরসভার পানি সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এ অবস্থায় নাগরিকদের দুর্ভোগ কমাতে পৌরসভার উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থায় পানিসেবা সচল রাখায় পৌরসভার প্রশাসকের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনেকে।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের উকিলপাড়া রুজিনা ম্যানশনের সামনে, অফিসার্স ক্লাবের সামনে, জেইল রোড পুরাতন হাসপাতাল এবং মোক্তারপাড়া মহিলা সমিতির সামনে ট্রাক নং-০১ এর মাধ্যমে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া হাছননগর এলাকার উত্তম লাল কলোনির সামনে, কালীবাড়ি স্কুল ও মন্দিরের সামনে, বাঁধনপাড়া ড্যাফোডিল স্কুলের সামনে এবং দুর্গা মন্দির সংলগ্ন স্থানে ট্রাক নং-০২ এর মাধ্যমে একই সময়ে পানি বিতরণ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিহারী পয়েন্ট, হোসেন বখত চত্বর, আবুল হোসেন রোডের পুরাতন প্রাথমিক শিক্ষক মিলনায়তনের সামনে এবং কেন্দ্রীয় কবরস্থানের সামনে ট্রাক নং-০৩ এর মাধ্যমে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পানি সরবরাহ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা শাকিল আহমদ বলেন, শহরবাসীর পানি সংকট নিরসনে আমরা নির্ধারিত সময়ের বাইরেও প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সরবরাহ করছি।
পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার তত্ত্বাবধায়ক অদ্রি রায় জানান, গত সোমবার থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। মানুষের চাহিদা বিবেচনায় অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও বেশি সময় ধরে এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের কাজীর পয়েন্টে অবস্থিত প্রধান পানি শোধনাগার ছাড়াও হাছননগরে নির্মিত আরেকটি শোধনাগার থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে প্রায় দুই হাজার গ্রাহক পৌরসভার পানি সুবিধা ভোগ করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০০ গ্রাহক হাছননগরের ট্যাংকি থেকে পানি পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি ওই ট্যাংকির মোটরে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ট্রাকের মাধ্যমে পানি সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।
উকিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা সিদ্ধার্থ এষ বলেন, বিশুদ্ধ পানি নাগরিক সেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও পৌর কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রাকে করে পানি পৌঁছে দিচ্ছে, যা প্রশংসনীয়।
হাছননগর এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী আবদুর রায়হান বলেন, পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় গোসল ও গৃহস্থালি কাজে ভোগান্তি হচ্ছিল। এখন ট্রাকের মাধ্যমে পানি পাওয়ায় সেই কষ্ট অনেকটা কমেছে।
টিআইবির সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, আমরা ইদানিং পৌরসভার বেশ কিছু ইতিবাচক কার্যক্রম লক্ষ্ করেছি। এর মধ্যে পানি শোধনাগার সংস্কার ও বর্জ্য অপসারণ রয়েছে। শহরের রাস্তাগুলো সংস্কার, প্রশস্তকরণ দরকার। পৌরসভার উন্নয়ন কাজগুলো স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে হলে নাগরিক ভোগান্তি থাকবে না। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার পরও পৌর কর্তৃপক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পানি বিতরণ করায় নাগরিকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, ময়নার পয়েন্টের পানি সরবরাহ কেন্দ্রের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এখন সংস্কার কাজ চলছে। কিন্তু এই সময়ে পানির জন্য যাতে নাগরিকদের ভোগান্তি পোহাতে না হয়, এ জন্য ট্রাকে করে পাসি সরবরাহ কা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পৌরসভা ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন। আমরা স্থায়ী সমাধানের চিন্তা করছি। এ জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও বরাদ্দ প্রয়োজন। আমি যোগাযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, পৌরসভার প্রতিটি কাজে নাগরিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শহরে যাতে জলাবদ্ধতা না হয় এ জন্য ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। ড্রেন ও নালাগুলো পরিস্কার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের বর্জ্য জমে অনেক ড্রেন ও নালা বন্ধ হয়ে আছে। আমরা সব ড্রেন ও নালা পর্যায়ক্রমে সচল করার উদ্যাগে নিয়েছি। আমরা আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি।