স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে প্রকাশ্যে এসেছে। সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ঘিরে ‘সিন্ডিকেট’ গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে সরকারি বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন অনুদান ভাগাভাগির অভিযোগ করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে গত ৬ আগস্ট এমপির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তারা।
শনিবার (৮ আগস্ট) দিরাই পৌরসভার বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক) সমর্থিত নেতাকর্মীদের আয়োজিত সমাবেশে এসব অভিযোগ করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, নাছির উদ্দিন চৌধুরী অসুস্থ থাকার সুযোগ নিয়ে তাঁর আশপাশের একটি ‘সিন্ডিকেট’ সরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ, কৃষি প্রণোদনা ও বিভিন্ন অনুদান নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সমাবেশে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মঈনুদ্দিন চৌধুরী (মাসুক) বলেন, দলের পদধারী নেতাদের বাদ দিয়ে পিএস-এপিএস দিয়ে দল পরিচালনা করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যের বরাদ্দসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটেপুটে খাওয়া হচ্ছে।
এদিকে গত ৬ আগস্ট দিরাই থানা পয়েন্টে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত জুলাই স্মরণ সমাবেশে নাছির উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘আমি যতদিন জীবিত আছি, কাউকে কোনো ধরনের দুর্নীতি করার সুযোগ দেব না। যারা দলের নাম ব্যবহার করে চুরি-দুর্নীতি করতে পারছে না, তারাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ৬ আগস্টের সমাবেশই বিএনপির মূল সমাবেশ এবং ৮ আগস্ট বিএনপির নামে আলাদা সমাবেশ আয়োজনকারীরা দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়।
৬ ও ৮ আগস্ট পাল্টাপাল্টি সমাবেশ এবং দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দিরাই উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ আরও প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
মন্তব্য করুন