স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে 'জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন শীর্ষক' সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকাল ৩ টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ড. মো: নিজাম উদ্দিন।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্য রাখেন সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো: জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। সেমিনার সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সমর কুমার পাল।
সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর মাও. তোফায়েল আহমদ খান, দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সম্পাদক পংকজ দে, জেলা বিএনপি'র সদস্য অ্যাড. মোনাজ্জির হোসেন সুজন, সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, ৭১ টিভি'র জেলা প্রতিনিধি শহীদ নুর আহমদ, শিক্ষক গোলাম মোস্তফা সর্দার প্রমূখ।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, ভাল শিক্ষার্থী নিয়ে আমাদের কোনো চিন্তা নেই, চিন্তা তো খারাপ ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের নিয়ে।
তিনি বলেন, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের স্কলারশীপ দেয়া হয়। আগামীতে জেলা পরিষদের উদ্যোগে স্কলারশীপ ভাল ফলাফলকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষক ভাল উদ্যোগ নিলে অনেক কিছু করতে পারেন। একজন ভাল শিক্ষকের একজন ভাল শিক্ষার্থী হয়। সে ভাল ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়। এই জন্য শিক্ষায় সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।
মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো: আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিভাগে সুনামগঞ্জ ২য় স্থানে ছিল। সুনামগঞ্জের ফলাফল আরো ভাল হতো, কিন্তু হয়নি। এটার কারণ কোনো কোনো শিক্ষকের যে খাতা দেখার দায়িত্ব ছিল, সেই দায়িত্ব পালন করেছে কোনো কোনো শিক্ষার্থী। তারা শিক্ষার্থী দিয়ে খাতা দেখিয়েছেন। এই দোষ শিক্ষক ও কমাকর্তাদের। কারণ, আমরা পাঠদানের বিষয় নিয়ে স্টাডি করি না। তাই আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক মান বৃদ্ধি করলেই শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে না। প্রয়োজন শিক্ষাদানের সঠিক মানসিকতা। একজন শিক্ষক নিজে চাপ্টার সম্বন্ধে জানতে হবে। এই জানার জন্য আমরা শিক্ষার উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে শিক্ষকদের নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। আরো করবো।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকুরির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে হালাল বেতন নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের ক্লাশে যদি কোচিং সেন্টার মনে করে পাঠদান করেন, তবেই শিক্ষারমান ভাল হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবশ্যই শিক্ষকদের ভূমিকা নিতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপক ড. মো: নিজাম উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জ জেলার শিক্ষার সূচনীয় অবস্থা করতে হবে। শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। একই সাথে উপর ক্লাশের শিক্ষার্থীরা নিচের ক্লাশের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের অভ্যাস গড়ে তোলতে হবে। তখন অনেক উপকার হবে।
তিনি বলেন, নিজেকে মোটিফাই করতে পারলে, পরিবারকে প্রভাবিত করতে পারবেন। ইংরেজী শিক্ষায় দক্ষতা বাড়াতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।