দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পুত্রবধু কর্তৃক মোহাম্মদ আলী (৭৫) নামে এক বৃদ্ধকে ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৫ আগষ্ট) উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় রোববার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-নিহত মোহাম্মদ আলীর পুত্রবধূ হোসনা বেগম (৩৮), রুহুল আমিন (২২) ও নজরুল ইসলাম (২০)।
পুলিশের দাবি, হোসনা বেগম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী এবং রুহুল আমিন ও নজরুল ইসলাম টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পুত্রবধুর সাথে মনমালিন্যের কারনে নিজগৃহে একাই বসবাস করতেন মোহাম্মদ আলী।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মোহাম্মদ আলী রাত ১২টার দিকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমাতে যায়। সকালে উঠে পরিবারের অন্যান্য লোকজনতাকে মৃত দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে শনিবার দুপুরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি মোছা. আছমা বেগম (২৬) বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতেে স্বজনদের অভিযোগে সন্ধেজনক হিসেবে পুত্রবধু হোসনারা বেগমকে সন্দেহজনক ভাবে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাধে হত্যার ঘটনাটি স্বীকারোক্তি দেয় তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী দীর্ঘদিন ধরে নিজ ভিটায় বসবাস করছিলেন। তাঁর জমি পুত্রবধূ হোসনা বেগম ও সৌদি আরবপ্রবাসী ছেলে ইসমাইল মিয়ার নামে জমি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এর জেরে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হোসনা বেগম তাঁর দূরসম্পর্কের ভাগ্নে রুহুল আমিনকে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে শ্বশুরকে হত্যার দায়িত্ব দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘটনার রাতে হোসনা বেগম ঘরের পেছনের দরজা খুলে দেন। পরে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন সকালে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মোহাম্মদ আলীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হয় এবং দ্রুত দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর মুখে রক্ত ও গলায় কালো দাগ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’