স্টাফ রিপোর্টার
জেলায় জাতীয় পার্টির উদ্যোগে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির আলোকে উপজেলা দিবস উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৮৩ সালের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ উপজেলা পদ্ধতি চালু করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও উন্নয়ন কে সাধারণ মানুষের
কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। সেই থেকে জাতীয় পার্টি দিনটিকে উপজেলা দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।
উপজেলা দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম বাজারস্থ জাতীয় পার্টির অস্থায়ী কার্যালয় হতে একটি র্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মুক্তিযুদ্ধা জগ্যজ্যোতি পাঠাগারে (পাবলিক লাইব্রেরী) এসে সমাপ্ত হয়।পরে এসংক্রান্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ মুক্তিযুদ্ধা জগৎ জ্যোতি পাঠাগারে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মনির উদ্দিন মনির।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন আমাদের প্রয়াত নেতা বাংলাদেশের সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান পল্লীবন্ধু এরশাদ এদেশের শ্রেষ্ঠ সংষ্কারকইনা শুধু তিনি দেশের উন্নয়নের রূপকার ছিলেন। তাঁর সময়ে গৃহীত নানামুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে যারা সরকারে এসেছেন তারা তাঁর দেখানো পথেই উন্নয়ন করেগেছেন। এরশাদ সরকারের শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার উপজেলা ব্যবস্থা। যার মাধ্যমে এই দেশের সাধারন মানুষের কাছে তিনি সকল সেবা পৌঁছে দিয়েছিলেন। গ্রামে গ্রামে উন্নয়ন পৌঁছে দিয়েছিলেন, জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন কার মাধ্যমে তারা তাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন। বিচার ব্যবস্থা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরশাদ সাহেব ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরে পরবর্তী সরকার এই উপজেলা ব্যবস্থাকে বাতিল করেন। মানুষ কে আবার গ্রাম ছেড়ে শহর মুখী করা হল। দীর্ঘদিন পরে হলেও দেশের মানুষ এটি বুঝতে পেরেছেন দেশকে এগিয়ে নিতে গেলে পল্লীবন্ধু এরশাদ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উপজেলা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। এখন এই দাবীটি গণ দাবীতে রূপ নিয়েছে। মনির উদ্দিন বলেন জাতীয় পার্টি দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলগুলোর একটি, সারা দেশে জাতীয় পার্টির লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীরা রয়েছেন যারা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএমকাদের সাহেবের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। তিনি বলেন জাতীয় পার্টির নেতা কর্মীরা দূর্দিন সুদিন বুঝে রাজনীতি করেনা তারা নির্লোভ। তিনি বলেন প্রয়োজনে আমরা প্রস্তুত আছি, জিএম কাদের যখনই আন্দোলনের ডাক দিবেন সুনামগঞ্জ থেকে আমরা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব। জাতীয় পার্টি ছাড়া এদেশে কোন নির্বাচন হবেনা জানিয়ে তিনি দলীয় নেতা কর্মীদের দলকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।দলীয় নেতা কর্মীদের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন সুনামগঞ্জ -০৪ আসন থেকে মাননীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদের আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি এমপি নির্বাচন করব। মাননীয় চেয়ারম্যান আমাকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দিয়েছেন আমি পালন করে যাচ্ছি। সুদিনের চালকেরা দূর্দিনে স্টিয়ারিং ছেড়ে দিলেও আমি মনির উদ্দিন আমার নেতা কর্মীদের নিয়ে পার্টিকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছি। জাতীয় পার্টিই আমার একমাত্র ঠিকানা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সজ্জাদুর রহমান সাজু র সঞ্চালনায় এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন আহবায়ক নজির হোসেন, হাবিলদার (অবঃ)মোর্শেদ মিয়া ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লাল।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ন আহবায়ক শামসুজ্জামান জামান ও জসিম উদ্দিন জাপা নেতা হাবিবুর রহমান হাবি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা জাতীয় পার্টি নেতা সিরাজুল ইসলাম মাস্টার, বুলবুল আহমদ ও মোস্তফা মিয়া। জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি সুনামগঞ্জ জেলার সাধারন সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ জাতীয় মহিলা পার্টির যুগ্ন আহবায়ক ফরিদা পারভীন ও মমতাজ বেগম,জাপা নেতা মোস্তফা মিয়া আব্দুর রহমান,জগন্নাথপুর উপজেলা জাপা নেতা শফাত আলী জাতীয় ছাত্র সমাজ সুনামগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সুমন আহমদ স্বপন জাতীয় পার্টি সুনামগঞ্জ পৌর কমিটির নেতা পীর এনাম আহমদ শাহরুখ,সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সদস্য সচিব ছাব্বির আহমদ সুরমা ইউপি জাপা নেতা আনোয়ার হুসেন পলাশ ইউপি জাপা নেতা জসিম উদ্দিন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কাঠইর ইউপি জাপার সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বাকশাল জাপা নেতা আনোয়ার হুসেন ও জয়নাল মিয়া। জাতীয় যুব সংহতি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার আহ্বায়ক শাহিন আহমেদ মিন্টু জাপা নেতা আলিম উদ্দিন জাহাঙ্গীর নগর ইউপি জাপা নেতা শুকুর আলী
নারী নেত্রী রওশন আরা সাবিনা বেগম আমিনা বেগম প্রমূখ।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী আমজাদ হোসাইন।