স্টাফ রিপোর্টার
জামালগঞ্জ উপজেলায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সরকারি সভায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় উপস্থিত জুলাইপন্থি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী অংশগ্রহণকারীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ে আয়োজকরা।
সভার শুরুতেই জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকুন নূর বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন পুরকায়স্থকে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানালে প্রবল আপত্তি জানান উপস্থিত জুলাইপন্থিরা। অভিযোগ ওঠে, অঞ্জনের বিরুদ্ধে অতীতে ফ্যাসিবাদী কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল আহাদ প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন “যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে, তাকে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ কেন দেওয়া হলো? যাদের পতনের জন্য এদেশে ছাত্র সমাজ তাজা প্রাণ দিয়েছে, তাদের বিপরীত অবস্থানের লোককে মূল্যায়ন কেন?”
এই মন্তব্যের পর সভাকক্ষে চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ইউএনও মুশফিকুন নূর বিষয়টি আমলে না নিয়ে উল্টো প্রতিবাদী সাংবাদিকদের প্রতি মাইকে কিছু অরুচিকর মন্তব্য করেন এবং তাদের সভাকক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দেন। এতে সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য অনুষ্ঠান বন্ধ থাকে।
জুলাইপন্থিদের অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাবাধীন থেকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে। তারা বলেন, এর আগেও একটি সরকারি ক্যান্টিন উদ্বোধনে স্থানীয় সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ঘরানার মিডিয়াকর্মী দিয়ে অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হয়েছিল।
স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহীন আলম বলেন, “মূলধারার সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদপন্থীদের সামনে এনে মূল্যায়ন করা মানেই স্বৈরতন্ত্রের পুনর্জাগরণ। প্রশাসন যেন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর আদর্শ অনুসরণ করে নিরপেক্ষ থাকে।”
সাংবাদিক আব্দুল আহাদ আরও বলেন, “ডেভিল সাংবাদিকদের সামনে বসিয়ে রেখে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা মেনে নেওয়া যায় না। ইতিহাস, গণতন্ত্র ও মানুষের চেতনার প্রতি সম্মান জানানো প্রশাসনের দায়িত্ব।”
সভায় একাধিক সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও তারা কেউ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যা জনসাধারণের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুশফিকীন নূর বলেন, অনাকাঙ্খিত ভুল হয়ে থাকলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেব।