দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পান্ডারখাল বাঁধ দখল করে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের ব্যবসা বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের ঘোষণা যেন কেবল মাইকিংয়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে। প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা পেরিয়ে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও বাঁধ থেকে সরানো হয়নি অবৈধভাবে রাখা ইট, বালু ও পাথরের স্তূপ। বরং আগের মতোই প্রকাশ্যে চলছে ইট-বালু-পাথরের ব্যবসা।
পান্ডারখাল বাঁধ দখল করে অবৈধভাবে ইট, বালু ও পাথরের রমরমা ব্যবসা চলছে—এমন অভিযোগে গত ২২ জুলাই বাংলা এডিশনে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসন।
এরপর ২৪ জুলাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পান্ডারখাল বাঁধ এলাকায় মাইকিং করা হয়। এতে বাঁধের ওপর ও আশপাশে অবৈধভাবে রাখা ইট, বালু ও পাথরসহ সব ধরনের মালামাল সাত দিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্দেশ অমান্য করলে মালামাল জব্দসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রশাসনের সেই ঘোষণার ১০ দিন পার হলেও বাস্তবে দেখা যায়নি কোনো দৃশ্যমান অভিযান, উচ্ছেদ কিংবা মালামাল জব্দের কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এখনও পান্ডারখাল বাঁধের দুই পাশজুড়ে আগের মতোই প্রকাশ্যে রাখা হয়েছে ইট, বালু ও পাথরের বিশাল স্তূপ। এসব মালামালকে ঘিরে চলছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম। এতে একদিকে বাঁধের পরিবেশ ও সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী যানবাহন চলাচল ও মালামালের চাপে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের ঘোষিত সাত দিনের সময়সীমার কী হলো? জব্দ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা কি শুধু মাইকিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল? নাকি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কোনো ধরনের অনীহা রয়েছে?
স্থানীয়রা বলছেন, সরকারি বাঁধের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রশাসন যদি শুধু ঘোষণা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে, তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ দখল আরও উৎসাহিত হতে পারে। তাই দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে বাঁধের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তাদের দাবি, শুধু মাইকিং নয়, প্রশাসনের ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধভাবে রাখা ইট, বালু ও পাথর সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মালামাল জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, “এসিল্যান্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলছি। শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশাসনের দেওয়া সাত দিনের সময়সীমা পেরিয়ে ১০ দিন অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—পান্ডারখাল বাঁধ দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সেই ‘শিগগির’ ব্যবস্থা আসলে কবে?