স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের বিশিষ্ট চিকিৎসক, স্বাস্থ্য প্রশাসক, সমাজসেবক ও মানবসেবী ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর কর্মময় জীবনের পরিধি শুধু চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ডা. মোনাওয়ার আলীর অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুটিবসন্ত নির্মূল কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ জাতীয় এপিডেমিওলজি কর্মসূচিতে নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রায় এক বছর মাঠপর্যায়ে কাজ করেন। সে সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গুটিবসন্ত নির্মূলের লক্ষ্যে পরিচালিত কার্যক্রমে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন। জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক কর্মসূচিতে মাঠপর্যায়ে কাজ করার এই অভিজ্ঞতা তাঁর চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করে।
কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও সফরে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ব্যবস্থাপনায় ২০০৩ সালে সরকারি সফরে ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপে অনুষ্ঠিত ৪২ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন। ‘ডিজিজ বার্ডেন’ বিষয়ক ওই সেমিনারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। রোগের প্রকোপ, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং আধুনিক চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে সেখানে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও আলোচনা হয়।
একজন দক্ষ চিকিৎসক, সফল স্বাস্থ্য প্রশাসক, শিক্ষানুরাগী ও মানবসেবক হিসেবে ডা. সৈয়দ মোনাওয়ার আলী সুনামগঞ্জের মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছেন। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসাসেবা, জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন, শিক্ষা ও সমাজকল্যাণে তাঁর অব্যাহত কর্মকাণ্ড তাঁকে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে গেছে।
তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু পদ-পদবি কিংবা সম্মাননা নয়, মানুষের জন্য কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁর কর্মজীবনের বড় পরিচয়। চিকিৎসক হিসেবে রোগীর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা নতুন প্রজন্মের চিকিৎসক ও সমাজকর্মীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।