স্টাফ রিপোর্টার
হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, ফতোয়াবাজি ও হুমকির অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হেযবুত তওহীদ। বুধবার সকাল ১১টায় শহরের কালীবাড়ি এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের সদস্যদের জানমাল ও কার্যালয়সহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, গত ১ আগস্ট নোয়াখালী জেলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক, কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই সমাবেশে বক্তারা হেযবুত তওহীদের ইমাম ও সদস্যদের বিরুদ্ধে অগণতান্ত্রিক ও হিংসাত্মক বক্তব্য দেন। সংগঠনটির আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়ে দেশ থেকে উৎখাত করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে দেওয়া ৯ দফা দাবির ৬ নম্বর দফায় হেযবুত তওহীদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সংগঠনের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, এর আগে উগ্রবাদীদের ইন্ধনে পোরকরা গ্রামে হেযবুত তওহীদের ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিমের গ্রামের বাড়িতে চারবার হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় সংগঠনটির দুজন সদস্য নিহত এবং শতাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। বর্তমানে নোয়াখালীতে সংগঠনটির স্কুল, হাসপাতাল, খামার ও পোশাক কারখানাসহ অর্ধশতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প হুমকির মুখে রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বক্তারা বলেন, হেযবুত তওহীদ একটি অরাজনৈতিক ও সংস্কারমূলক আন্দোলন। আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে সংগঠনটি শান্তিপূর্ণভাবে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে বলে তারা দাবি করেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ছয় শতাধিক মামলা হলেও গত ৩১ বছরে কোনো সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, উসকানি ও ফতোয়া প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদ ব্যবহার করে উসকানি বন্ধ করা, হেযবুত তওহীদের কার্যালয়, সদস্যদের পরিবার ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংগঠনটির মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষা করা।
বক্তারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের উগ্রবাদ, মব সহিংসতা ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংবিধান, আইনের শাসন ও নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন।