দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের বিনোদনের জন্য নির্মিত উপজেলা শিশু পার্কটি ঘিরে এক সময় বেশ আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল এলাকার মানুষজনদের। কিন্তু উদ্বোধনের পর বেশ কয়েকদিন পার্কটি উন্মুক্ত থাকলেও কয়েকমাস না যেতেই বিভিন্ন জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে পার্কটি এখন গো-চারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, ২০২২ সালে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফয়সাল আহমদের প্রচেষ্ঠায় উপজেলার মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে দোয়ারাবাজার উপজেলা সদরে ২ একর জমিতে নির্মিত হয় শিশু পার্ক। নির্মানের ক'দিন পর পার্কটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় দূর্বৃত্তরা। পরে পুনরায় সংস্কার করে ওই বছরের ১৭ মার্চ উদ্বোধন করা হয় পার্কটি। চালু হওয়ার কয়েকমাস পর বন্ধ হয়ে যায় এই শিশু পার্ক। এর পর থেকে এখনো বন্ধ হয়ে আছে। উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পাশেই পার্কটির অবস্থান। এতে ব্যায় হয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষাধিক টাকা। উপজেলা সদরে অবস্থান হওয়ায় পার্কের ২ একর জমির দামও পায় ২ কোটি টাকার উপরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কটির একাংশের দেয়ালের ইট খসে পড়েছে। সুন্দর্য মন্ডিত বিভিন্ন চিত্র ভেঙ্গে ঝুলে আছে। আগাছা ও ঘাসে ভরে গেছে পুরো জায়গাটি। কিছু স্থানে গর্ত হয়ে পানি জমে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ গরু ঘাস খাওয়াচ্ছেন। এ যেনো গোচারণ ভূমিতে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের জন্য বিনোদনের কোন মাধ্যম না থাকায়। স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতে এলাকার বৃত্তবানদের ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পার্কটি নির্মান করা হয়। শিশু পার্ক ঘিরে উপজেলার মানুষজনের অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিলো।কিন্তু উদ্বোধনের পর বেশিদিন উন্মুক্ত থাকেনি পার্কটি। ব্যবহৃত হয়নি মানুষের বিনোদনের কাজে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি।
দোয়ারাবাজার উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহাবুদ্দিন সিহাব জানান,
দোয়ারাবাজার উপজেলার মানুষের বিনোদনের কোন জায়গা নেই। অনেক জটিলতার মধ্যদিয়ে নির্মিত শিশু পার্ক ঘিরে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটলেও অবহেলায় নষ্টের পথে শিশু পার্কটি। এই পার্কটি চালু হলে মানুষ বিনোদনের কেন্দ্র পাবে। বিশেষ করি শিশুরা এতে উপকৃত হবে। দোয়ারাবাজার শিশু পার্ক ঘিরে উন্নতি হবে এলাকার ব্যবসা-বানিজ্য।
দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহ বলেন, আমি দোয়ারাবাজারে যোগদান করার পর থেকে দেখতে পাই শিশু পার্কটি তালাবদ্ধ আছে।
তিনি জানান, এই শিশু পার্কটি সংস্কার করে পুনরায় সচল করার জন্য জেলা পরিষদে প্রকল্প প্রস্তাব ও প্রাক্কলন পাঠিয়েছি। আমি ইঞ্জিনিয়ারকে নিয়ে গত বুধবার পার্কটি দেখে এসেছি। কার্যক্রম শুরু হলে আবার আগের মতো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।